রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ে নেমে আসা ধস শুধু মাটি সরায়নি, কেড়ে নিয়েছে বহু পরিবারের স্বাভাবিক জীবন। টানা বর্ষণে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, অনেকেই হয়েছেন অসহায়। এমন কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে পাক্ষিক ‘চলমান রাঙ্গুনিয়া’ পত্রিকার পাঠক সংগঠন ‘বন্ধু সমাবেশ’। আর এই মানবিক উদ্যোগে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন মানবিক সংগঠন ‘মানুষ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও তরুণ কণ্ঠশিল্পী পিজিত প্রসেনজিত মহাজন।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে উপজেলার ইছাখালী জাকিরাবাদ ও আদর্শ গ্রামে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেন সংগঠনের সদস্যরা। সহায়তা পেয়ে অনেক পরিবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং দুর্যোগের এই সময়ে পাশে দাঁড়ানো মানুষদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
এর আগে চট্টগ্রামের বাঁশখালী ও সাতকানিয়ার বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রশংসিত হন পিজিত প্রসেনজিত মহাজন। এবার নিজের জন্মভূমি রাঙ্গুনিয়ার মানুষের দুর্দশার খবর পেয়ে আবারও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি। তাঁর বিশ্বাস, সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন এগিয়ে এলে দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।
মানবিক এই কার্যক্রমে অংশ নেন ফায়ার সার্ভিস রাঙ্গুনিয়া স্টেশনের লিডার ও বন্ধু সমাবেশের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জাহেদুর রহমান, সদস্য সচিব বাচিক শিল্পী ও শিক্ষক এম. মোরশেদ আলম, সদস্য মুবিন উদ্দিন, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্ভাবক সাইফুল্লাহ সরোয়ার, পাক্ষিক ‘চলমান রাঙ্গুনিয়া’ পত্রিকার সম্পাদক আব্বাস হোসাইন আফতাব, মাস্টার আবু বক্কর, মোহাম্মদ মিজান, মাস্টার হোসাইন, ইউনুস রনি, বোরহান রেজাসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
বন্ধু সমাবেশের নেতারা জানান, এটি কেবল একটি ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি নয়; বরং মানুষের পাশে মানুষের থাকার এক আন্তরিক অঙ্গীকার। তারা বলেন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করবেন।
প্রকৃতির দুর্যোগ থামানো না গেলেও মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া যায়। আর সেই বার্তাই নতুন করে তুলে ধরেছে ‘চলমান রাঙ্গুনিয়া’ ও বন্ধু সমাবেশের এই উদ্যোগ। একজন শিল্পীর সামাজিক দায়বদ্ধতা, একটি পাঠক সংগঠনের মানবিক অঙ্গীকার এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ,সব মিলিয়ে রাঙ্গুনিয়ায় তৈরি হয়েছে সহমর্মিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। 