প্রতিবেদন: সৌরভ সাহা, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার তারিণী চরণ মহাজনের হাট সার্বজনীন শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেব মন্দির এর উদ্যোগে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। রথযাত্রাকে ঘিরে সকাল থেকেই জগন্নাথ বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত নারী-পুরুষ, শিশু ও প্রবীণ ভক্তদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
প্রতি বৎসরের ন্যায় এবারও অষ্টপ্রহরব্যাপী তারকব্রক্ষ্মনাম সংকীর্তন এর আয়োজন হয়। এতে নামসুধা পরিবেশনায় ছিলেন শ্রী গোপালবাড়ি সম্প্রদায়, প্রভু নিতাইচাঁদ সম্প্রদায়, মদনমোহন সম্প্রদায় এবং জগন্নাথ সম্প্রদায় ।
বিকাল ৪ ঘটিকায় বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ, পূজা-অর্চনা ও মঙ্গল আরতির মধ্য দিয়ে সুসজ্জিত রথে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেব, বলরাম ও সুভদ্রার শুভযাত্রা শুরু হয়। শত শত ভক্ত রথের দড়ি টেনে এই পবিত্র যাত্রায় অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি শান্তি নিকেতন, মজুমদারখীল, নাথপাড়া, দক্ষিণ সাবেকসহ বিভিন্ন সড়ক ও এলাকা প্রদক্ষিণ করে। পথে পথে বিভিন্ন স্থানে ভক্তরা ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন, আরতি, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও হরিনাম সংকীর্তনের মাধ্যমে প্রভু জগন্নাথকে বরণ করে নেন। পুরো পথজুড়ে ছিল ধর্মীয় আবহ, ভক্তিমূলক সঙ্গীত ও জয়ধ্বনি।
দীর্ঘ পরিক্রমা শেষে শ্রীশ্রী জগন্নাথদেব ভক্তদের কাছে ‘মাসীর বাড়ি’ নামে পরিচিত শ্রী শ্রী সমভাব আদিত্য ধাম ও রাধা গোপীনাথ মন্দিরে পৌঁছান। সেখানে মন্দির পরিচালনা কমিটি, ভক্তবৃন্দ ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাঁকে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বরণ করে নেন। পরে বিশেষ পূজা-অর্চনা, গীতাপাঠ, হরিনাম সংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা এবং মহাপ্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়।
আয়োজকরা জানান, ‘মাসীর বাড়ি’ আগমন উপলক্ষে আদিত্য ধামে কয়েকদিনব্যাপী ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিদিন মঙ্গলারতি, পূজা-অর্চনা, হরিনাম সংকীর্তন, ধর্মীয় আলোচনা, ভক্তদের প্রসাদ বিতরণসহ নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে রাঙ্গুনিয়াসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে অসংখ্য ভক্ত অংশগ্রহণ করবেন।
স্থানীয় ভক্তরা বলেন, রথযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐতিহ্য, ভক্তি ও সম্প্রীতির প্রতীক। প্রতিবছরের মতো এবারও বিপুল সংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও আনন্দঘন পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে।