আব্বাস হোসাইন আফতাব:
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে রাঙ্গুনিয়ার অনেক নিম্নআয়ের পরিবারের রান্নাঘরের চিত্র বদলে গেছে। একসময় যেখানে ধোঁয়া উড়ত, সেখানে এখন কাদা আর জমে থাকা পানি। ভিজে গেছে মাটির চুলা, ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে জ্বালানি কাঠ। ফলে অনেক পরিবার একবেলা রান্না করতে পারলেও আরেক বেলা খাবার জোগাড়ে হিমশিম খাচ্ছে।
বিশেষ করে পাহাড়ঘেঁষা ও নিম্নাঞ্চলের অনেক পরিবার এখনো মাটির চুলার ওপর নির্ভরশীল। টানা বৃষ্টিতে চুলা শুকানোর সুযোগ না থাকায় রান্না বন্ধ হয়ে গেছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ সদস্যদের নিয়ে এসব পরিবারের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে বুধবার উপজেলার বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। তিনি দুর্গত মানুষের খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার বিতরণ করেন।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও মো. নাজমুল হাসান বলেন, “দুর্যোগে কোনো মানুষ যেন না খেয়ে কষ্ট না পান, সে লক্ষ্যেই উপজেলা প্রশাসন কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আমরা আছি এবং থাকব। যেকোনো জরুরি প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসনের হটলাইন কিংবা আমার নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করুন।”
তিনি আরও বলেন, “সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, ব্যবসায়ী, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর প্রতি আহ্বান জানাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ান। দুর্যোগের এই সময়ে মানবিক সহায়তাই সবচেয়ে বড় শক্তি।”
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জরুরি সহায়তার জন্য ০১৭১৭৯৭৬৪০৪ ও ০১৮৪০০৮১১০০ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। এছাড়া প্রয়োজন হলে ইউএনওর ০১৭৮৯৭৯৬১৬০ নম্বরে মেসেজ বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও যোগাযোগ করা যাবে।
দুর্যোগের এই সময়ে প্রশাসনের পাশাপাশি প্রতিবেশী, স্বজন ও সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের সহায়তাই অনেক পরিবারের চুলায় আবার আগুন জ্বালাতে পারে।