আব্বাস হোসাইন আফতাব :
দুর্যোগের সময় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় দ্রুত সহায়তার। টানা অতিবৃষ্টিতে যখন রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন এলাকার মানুষ পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন, তখন তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ক্ষুধার কষ্ট লাঘবে প্রায় একশত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য রাতের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসানের উদ্যোগে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে শুরু হয় ব্যস্ততা। প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা একসঙ্গে রান্না, খাবার প্যাকেটজাত এবং বিতরণের কাজ সম্পন্ন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রস্তুত করা হয় প্রায় একশত খাবারের প্যাকেট।
রাত নামার সঙ্গে সঙ্গে এসব খাবার পৌঁছে দেওয়া হয় অতিবৃষ্টিতে পহাড় ধসে ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দী পরিবারের কাছে। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল ভাত, মুরগীর মাংস, ডিম, সবজি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাবার, যাতে দুর্যোগের মধ্যেও পরিবারগুলো অন্তত একবেলা নিশ্চিন্তে খাবার গ্রহণ করতে পারে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের দায়িত্ব। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্যসহ অন্যান্য সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়রা বলেন, দুর্যোগের সময়ে এমন উদ্যোগ শুধু খাদ্য সহায়তাই নয়, মানুষের মনে সাহস ও আস্থাও জোগায়। প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বিত এই উদ্যোগ দুর্যোগ মোকাবিলায় মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রাষ্ট্রের দায়িত্ব যেমন রয়েছে, তেমনি প্রয়োজন সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা। রাঙ্গুনিয়ার এই উদ্যোগ সেই মানবিক দায়িত্ববোধেরই একটি অনুকরণীয় উদাহরণ।