প্রতিবেদন: সৌরভ সাহা ২০১৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে ২-১ গোলে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের। টুর্নামেন্ট থেকে বিদায়ের হতাশা কাটতে না কাটতেই ফুটবল বিশ্বকে আরও বড় এক আবেগঘন মুহূর্ত উপহার দেন নোইমার। ম্যাচ শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দেন ব্রাজিলের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই তারকা।
খেলা শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে ৩৪ বছর বয়সী নেইমার বলেন, “আমি চেষ্টা করেছি… এখন এটা শেষ।” সংক্ষিপ্ত এই বক্তব্যেই যেন ফুটে ওঠে দীর্ঘ ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সব সাফল্য, ব্যর্থতা, সংগ্রাম এবং অপূর্ণতার গল্প। ২০১০ সালে ব্রাজিল জাতীয় দলে অভিষেকের পর থেকেই দলের আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা ছিলেন নেইমার। অসাধারণ গতি, নিখুঁত ড্রিবলিং, দুর্দান্ত ফিনিশিং এবং সৃজনশীল ফুটবল দিয়ে তিনি দ্রুতই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত হন। ব্রাজিলের জার্সিতে ১৩০টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে ৮০টি গোল এবং ৫৮টি অ্যাসিস্ট করে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ করলেন তিনি। দেশের হয়ে সর্বোচ্চ গোলদাতাদের তালিকায়ও তিনি অন্যতম শীর্ষ নাম।
ক্যারিয়ারে তিনি অসংখ্য ব্যক্তিগত ও দলীয় সাফল্য অর্জন করেছেন। ব্রাজিলকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নেতৃত্ব দিয়েছেন, জিতেছেন গুরুত্বপূর্ণ শিরোপাও। তবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। ২০১৪ সালে চোট, ২০১৮ ও ২০২২সালে হতাশাজনক বিদায় এবং এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকেই বিদায়—প্রতিবারই ভাগ্য যেন তার বিপক্ষে ছিল।
নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচেও জয়ের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন নেইমার। কিন্তু দলগত কিছু ভুল এবং প্রতিপক্ষের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের কারণে শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের পরাজয় মেনে নিতে হয় ব্রাজিলকে। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই মাঠে ভেঙে পড়েন নেইমার। সতীর্থদের আলিঙ্গন করেন, দর্শকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে বিদায় জানান। স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো সমর্থক দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে তাকে সম্মান জানান।
নেইমারের অবসরের ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভক্ত, সাবেক ও বর্তমান ফুটবলার এবং বিভিন্ন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব তার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেন। অনেকেই লিখেছেন, শিরোপা নয়—তার শিল্পসম ফুটবল, সৃজনশীলতা এবং মাঠে জাদুকরী উপস্থিতিই তাকে কিংবদন্তির আসনে বসিয়েছে।
ব্রাজিল বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও নেইমারের নাম দেশটির ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। গোল, অ্যাসিস্ট, অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত এবং কোটি কোটি সমর্থকের হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়া এই তারকা আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেও ফুটবলপ্রেমীদের স্মৃতিতে তিনি অমলিন হয়ে থাকবেন বহুদিন।