ফুটবলকে কেন অনিশ্চয়তার খেলা বলা হয়, তার আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকল সেনেগাল ও বেলজিয়ামের মধ্যকার রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত যে কোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরে যেতে পারে—এই সত্যই আবারও প্রমাণ করল দুই দলের লড়াই।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে সেনেগাল। ধারাবাহিক আক্রমণে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে চাপ সৃষ্টি করে তারা দুই গোলের লিড নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখে। ৮৩ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল আফ্রিকার দলটি।
কিন্তু এরপরই বদলে যেতে শুরু করে ম্যাচের দৃশ্যপট। ৮৪তম মিনিটে একটি গোল শোধ করে ব্যবধান কমায় বেলজিয়াম। সেই গোল দলটিকে নতুন করে উজ্জীবিত করে তোলে। মাত্র তিন মিনিট পর, ৮৭তম মিনিটে আরও একটি গোল করে সমতায় ফেরে ইউরোপের দলটি। মুহূর্তেই সেনেগালের আত্মবিশ্বাসে ভাটা পড়ে এবং ম্যাচে ফিরে আসে চরম উত্তেজনা।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হয় ২-২ সমতায়। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। অতিরিক্ত সময়েও দুই দলই একাধিক আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পায়নি। যখন সবাই টাইব্রেকারের অপেক্ষায়, তখনই ঘটে ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত।
যোগ করা সময়ের ৪ মিনিট ২৭ সেকেন্ডে পেনাল্টির সুযোগ পায় বেলজিয়াম। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয়সূচক গোল করে তারা। শেষ মুহূর্তের এই গোলে স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো স্টেডিয়াম। আনন্দে ভাসে বেলজিয়ামের খেলোয়াড় ও সমর্থকরা, আর হতাশায় ভেঙে পড়ে সেনেগাল শিবির।
রুদ্ধশ্বাস এই ম্যাচটি আবারও প্রমাণ করেছে, ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনো ফলই নিশ্চিত নয়। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাই অনেক সময় বদলে দিতে পারে পুরো ম্যাচের ভাগ্য।