আজ ২৮ জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো হেপাটাইটিস সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সময়মতো রোগ শনাক্ত করা, চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি একটি ভাইরাসজনিত সংক্রমণ, যা লিভারকে আক্রান্ত করে। এ রোগে আক্রান্ত অনেক ব্যক্তির শরীরে দীর্ঘদিন কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। ফলে তারা অজান্তেই ভাইরাস বহন করেন এবং রোগটি ধীরে ধীরে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণ থেকে লিভার সিরোসিস, লিভার বিকল হওয়া এবং লিভার ক্যান্সারের মতো প্রাণঘাতী জটিলতা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত, শরীরের নির্দিষ্ট তরল, অপরীক্ষিত রক্ত সঞ্চালন, দূষিত সূঁচ বা সিরিঞ্জ ব্যবহার এবং আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকে নবজাতকের শরীরে সংক্রমিত হতে পারে। তবে এটি সাধারণ স্পর্শ, একসঙ্গে বসে খাওয়া, করমর্দন বা আলিঙ্গনের মাধ্যমে ছড়ায় না। তাই রোগ সম্পর্কে ভুল ধারণা দূর করার পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া জরুরি।
চিকিৎসকদের মতে, হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকা গ্রহণ। শিশুদের নিয়মিত টিকাদানের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদেরও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী হেপাটাইটিস বি পরীক্ষা করানো এবং আক্রান্ত হলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে জটিলতার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, হেপাটাইটিস বি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা, নিরাপদ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, সময়মতো পরীক্ষা করা এবং টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজে এ বিষয়ে সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে সবাইকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান তারা।
তাদের ভাষ্য, হেপাটাইটিস নির্মূলে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সচেতনতা, প্রতিরোধ এবং সময়মতো চিকিৎসাই পারে হেপাটাইটিস বি থেকে মানুষকে সুরক্ষা দিতে এবং একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে।