হৃদরোগ এখন বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বাংলাদেশেও দিন দিন বাড়ছে হৃদরোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে হার্টের ধমনিতে ব্লক ধরা পড়লে অধিকাংশ রোগী ও তাঁদের স্বজনের মনে প্রথমেই যে প্রশ্নটি আসে, তা হলো—স্টেন্ট বসাতে হবে কি না বা বড় কোনো অপারেশনের প্রয়োজন হবে কি না।
তবে আধুনিক হৃদরোগ চিকিৎসায় যুক্ত হয়েছে নতুন এক প্রযুক্তি—ড্রাগ কোটেড বেলুন (ডিসিবি)। নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্টেন্ট ছাড়াই সফলভাবে হার্টের ব্লকের চিকিৎসা করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে রোগীরা তুলনামূলক কম জটিলতায় দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারছেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. মো. শওকত হোসেন জানান, ডিসিবি পদ্ধতিতে বিশেষ ধরনের ওষুধযুক্ত বেলুন ব্লক হওয়া ধমনিতে ব্যবহার করা হয়। এতে ধমনির ভেতরে ওষুধ পৌঁছে যায় এবং পুনরায় সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি কমে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে স্টেন্ট স্থাপনের প্রয়োজন হয় না।
চিকিৎসকদের মতে, সব ধরনের ব্লকের ক্ষেত্রে ডিসিবি উপযোগী নয়। রোগীর শারীরিক অবস্থা, ব্লকের ধরন ও অবস্থান বিবেচনা করে উপযুক্ত চিকিৎসা পদ্ধতি নির্বাচন করা হয়। তাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।
সম্প্রতি এ পদ্ধতিতে চিকিৎসা নেওয়া এক রোগীর স্বজন তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানান, সময়মতো সঠিক চিকিৎসা গ্রহণের ফলে রোগী সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন। আধুনিক প্রযুক্তির কারণে চিকিৎসা আরও সহজ ও কার্যকর হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা হৃদরোগের অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। কারণ হৃদরোগের ক্ষেত্রে দ্রুত রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসাই জীবন রক্ষার অন্যতম উপায়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ক্রমাগত উন্নয়নের ফলে হৃদরোগ চিকিৎসায় নতুন নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হচ্ছে। ড্রাগ কোটেড বেলুন প্রযুক্তি তারই একটি উদাহরণ, যা নির্দিষ্ট রোগীদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। হৃদযন্ত্রের সুস্থতা নিশ্চিত করতে সচেতনতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।