নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাঙ্গুনিয়ায় মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর রাঙ্গুনিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন এবং কর্ণফুলী নদীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। এতে বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) খন্দকার ফারজানা নাজনীন সেতু, রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ওসি জহির উদ্দিন, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার ওসি হিলাল উদ্দিন আহমেদ, হুমাম কাদের চৌধুরী এমপি’র ব্যক্তিগত কর্মকর্তা মুহিবুল কবির তমাল, উপজেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য শওকত আলী নূর, ইউসুফ চৌধুরী, হেলাল উদ্দিন শাহ, মাঈন উদ্দিন রোকন, রাঙ্গুনিয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি মোহাম্মদ ইলিয়াছ তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক মো. নুরুল আবছার চৌধুরী প্রমুখ। সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, কিশোর গ্যাং, বখাটেপনা, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় অংশ নেওয়া সদস্যরা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার ও মাদক সেবন নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজারকেন্দ্রিক এলাকায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের তৎপরতা নজরদারির আওতায় আনা প্রয়োজন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় উত্তর রাঙ্গুনিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। ওই অঞ্চলে পুলিশি কার্যক্রম আরও জোরদার করতে একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের দাবি জানানো হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, দুর্গম ও বিস্তৃত এলাকার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত পুলিশি সেবা নিশ্চিত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে উত্তর রাঙ্গুনিয়ায় স্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে বলে সভায় মত দেওয়া হয়।
বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি বেতাগীতে নদীপথে নজরদারি বাড়াতে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপনের দাবি জানানো হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর করলে হবে না। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, শিক্ষক, অভিভাবক এবং সাধারণ মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদক ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার থেকেই সচেতনতা তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সভায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাদক, কিশোর অপরাধ, বখাটেপনা ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।