
রাঙ্গুনিয়ার কর্ণফুলী নদী থেকে ৫ জনকে জীবিত উদ্ধারকারী কিশোর রবিউল্লাহসহ ৪ জনকে পুরষ্কৃত করবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নাজমুল হাসান। বুধবার (২৮ মে) দুপুরে উপজেলার চন্দ্রঘোনা- কদমতলি ইউনিয়নের দেওয়ানজি ঘাট ও কোদালা ঘাটের মাঝামাঝি কর্ণফুলী নদীতে একটি নৌকা ডুবে যায়। নৌকায় থাকা একই পরিবারের সদস্যরা তখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। চারদিকে শুধু চিৎকার আর আতঙ্ক।
ঠিক সেই সময় নিজের জীবনের কথা না ভেবে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে ১৫ বছরের কিশোর মো. রবিউল্লাহ। সঙ্গে ছিলেন তার বড় ভাই অলিউল্লাহ, কিশোরের বন্ধু শিমুল ও আবদুল্লাহ। পিতা মোহাম্মদ বাবুলের ইঞ্জিনচালিত বোট নিয়ে তারা ছুটে যান ডুবন্ত মানুষদের দিকে।
ভয়কে জয় করেই তারা উদ্ধার অভিযানে নামেন। প্রায় ১০ মিনিটের শ্বাসরুদ্ধকর চেষ্টায় ডুবে যাওয়া দুই শিশুসহ পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করেন তারা।
উদ্ধার অভিযানে গিয়ে নিজেও আহত হন রবি। তার পা কেটে যায়। তবুও থামেননি তিনি। মানুষের জীবন বাঁচানোর তাগিদে চালিয়ে গেছেন উদ্ধার কাজ।
ঘটনার পর গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিশোরের সাহসিকতার খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান খবরটি পেয়ে উদ্ধারকারী রবি ও তার দলকে পুরষ্কৃত করার কথা জানিয়েছে। কর্ণফুলীর সাহসী কিশোর রবিউল্লাহকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার পুরষ্কৃত করার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউএনওর পুরষ্কার দেবেন সেটা শুনে খুব ভালো লাগছে। তবে পুরষ্কারের জন্য নয়। সেই মূহুর্তে পানিতে ঝাঁপ দিয়ে তাদের বাঁচানো ছাড়া আর উপায় দেখছিলেন না। প্রচন্ড বাতাস ও স্রোতে নিজের প্রাণ সংশয় জেনেও তিনি মানবিক কাজটি করেছেন।
রবির বাড়ি রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কোদালা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সিকদার পাড়ায়।