
আব্বাস হোসাইন আফতাব :
ঈদ মানেই পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি, আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে বেড়ানো আর কোরবানির ব্যস্ততা। কিন্তু এই আনন্দঘন দিনেও কিছু মানুষ থাকেন দায়িত্বের ডাকে প্রস্তুত। রাঙ্গুনিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. আলী ও রেজাউল করিম তাঁদেরই দুজন।
ঈদুল আজহার সকাল। রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার সৈয়দবাড়ি এলাকার বাসিন্দা চাকরিজীবী মো. হোসেন (৫০) হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে জানান, তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
তবে তখন হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্স অন্য রোগী নিয়ে বাইরে। আরেক চালক মো. আলী ঈদের নামাজ শেষে বাড়িতে কোরবানির প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। এমন সময় ফোন আসে হাসপাতাল থেকে। সবকিছু ফেলে তিনি দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই রোগীকে নিয়ে রওনা দেন চট্টগ্রামের পথে।
রোগীর স্বজনেরা বলেন, ঈদের দিনে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স না পেলে বড় বিপদ হতে পারত। সময়মতো সেবা পাওয়ায় তারা স্বস্তি পেয়েছেন।
অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. আলী বলেন, “ঈদ সবার জন্য আনন্দের। কিন্তু আমাদের কাছে দায়িত্বটাই আগে। রোগীর জন্য ফোন এলে আর দেরি করার সুযোগ থাকে না।”
একই কথা বলেন চালক রেজাউল করিমও। তিনি জানান, ঈদের দিনেও তাঁরা প্রস্তুত থাকেন জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য। অনেক সময় পরিবারের সঙ্গে ঠিকমতো সময় কাটানো হয় না, তবু মানুষের সেবা দিতে পারাটাই তাঁদের কাছে বড় তৃপ্তি।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের অ্যাম্বুলেন্স চালকদের ঈদের দিনেও ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়। কেউ নামাজ শেষে, কেউবা কোরবানির কাজের মাঝখান থেকে বেরিয়ে ছুটে যান রোগী নিয়ে হাসপাতালে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, উৎসবের দিনেও যারা মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজ করেন, তারা সমাজের নীরব মানবসেবক। তাদের এই দায়িত্ববোধ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নাব জমিলা বলেন, “ঈদের দিনেও চিকিৎসক, নার্স ও অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা নিরবচ্ছিন্নভাবে সেবা দিয়ে গেছেন। পরিবারের সঙ্গে সময় কম কাটলেও রোগীদের সেবা দিতে পারাটাই তাদের ঈদ আনন্দ।