
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজার এলাকায় ভাড়া ও জমির খাজনার ৭ হাজার ২০০ টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে আবুল কাসেম (৬০) নামে এক ফল বিক্রেতার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, ভূমির মালিকপক্ষের ছেলের লাথির আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, বাগ্বিতণ্ডার সময় অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে তিনি স্ট্রোক করেন।
ঘটনাটি ঘটে গত শুক্রবার রাতে। এ ঘটনায় শনিবার (২৩ মে) সকালে রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়।
নিহত আবুল কাসেম উপজেলার চন্দ্রঘোনা-কদমতলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর শহীদপুর এলাকায়। পিতা মৃত বেছু মিয়া। তবে তিনি দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে চন্দ্রঘোনা দোভাষী বাজার এলাকায় বসবাস করে ফলের ব্যবসা করে আসছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজার এলাকার একটি স-মিল ও দোকানঘরের ভাড়া এবং জমির খাজনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার রাতে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে আবুল কাসেম অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, বিরোধ চলাকালে মূল অভিযুক্ত তাঁকে লাথি মারেন। এরপরই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তবে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়নি; বরং উত্তেজনার কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এদিকে ঘটনার পর থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি ওই স-মিলে চুরির অভিযোগও উঠেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।