1. live@cholomanrangunia.com : চলমান রাঙ্গুনিয়া : চলমান রাঙ্গুনিয়া
  2. info@www.cholomanrangunia.com : চলমান রাঙ্গুনিয়া :
সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বাবার অপেক্ষায় ছোট্ট মেয়ে রাঙ্গুনিয়ায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন রাঙ্গুনিয়ার যুবদল নেতা রাউজানে গু’লিতে নি’হত রাঙ্গুনিয়ায় স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী শ্রেণিকক্ষে ইউএনও: বাংলা ক্লাসে পাঠদান, শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখালেন নাজমুল হাসান পদুয়ায় চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ মামলার আসামী সেই সাইফুল গ্রেফতার! কৃষক কার্ড কার্যক্রমের দায়িত্ব পেলেন রাঙ্গুনিয়ার সাবেক ইউএনও মাসুদুর রহমান মানুষের জন্য ছুটে চলা এক তরুণ, নীরবে বদলে দিচ্ছেন চারপাশ জায়ান্ট স্ক্রিনে সরাসরি বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখাবে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা প্রশাসন চিকিৎসক ডাঃ পার্থ সারথী দাশগুপ্তের মৃত্যুতে শোকের ছায়া

প্রবাসে এক সুতোয় বাঁধা ছিল চার জীবন, চিরতরে ঘুমিয়ে গেলেন পাশাপাশি চার কবরে

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২০ মে, ২০২৬
  • ১৩৮ বার পড়া হয়েছে

আব্বাস হোসাইন আফতাব :

শৈশব-কৈশোর কেটেছে একসঙ্গে। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ঘর ছেড়েছিলেন একসাথে। মধ্যপ্রাচ্যের ওমানের তপ্ত মরুভূমিতে দিনরাত এক করে রক্ত পানি করা খাটুনিও খেটেছেন চার ভাই মিলে। স্বপ্ন ছিল অনেক তো হলো, এবার একসঙ্গে গ্রামের বাড়ি ফিরবেন। মা-বোনের মুখে হাসি ফোটাবেন।
চার ভাই ফিরলেন। তবে জীবিত নয়, কাঠের চার কফিনে চড়ে, নিথর দেহে। যে স্বজনরা অধীর আগ্রহে পথ চেয়ে বসেছিলেন তাঁদের ফেরার, আজ তাঁদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে রাঙ্গুনিয়ার আকাশ-বাতাস। প্রবাসে একসঙ্গে জীবন সংগ্রাম করা চার ভাই রাশেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম আজ চিরতরে ঘুমিয়ে গেলেন গ্রামের বাড়ির কবরস্থানে, পাশাপাশি চারটি কবরে।
বাড়িভর্তি মানুষ, কিন্তু কোথাও নেই চার ভাই
 সকাল ১০টা। রাঙ্গুনিয়ার হোছনাবাদ লালানগর গ্রামের বন্দারাজারপাড়ার সেই বাড়িটিতে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। বাড়ির উঠানে সারি করে রাখা চারটি খাটিয়া। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু কিংবা দূর-দূরান্ত থেকে আসা চেনা-অচেনা হাজারো মানুষের ভিড়। সবার চোখেই জল।
স্বজনদের আহাজারি থামানোর ভাষা জানা নেই কারও। চার ভাইকে শেষবারের মতো দেখতে আসা মানুষের ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল প্রতিবেশীদের। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে এভাবে চার ভাইয়ের একসঙ্গে লাশ হয়ে ফেরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না কেউ।
এই জানাজায় অংশ নিতে হাটহাজারী থেকে ছুটে এসেছেন সৌদি আরব প্রবাসী আবু সুফিয়ান। নিহতদের কেউ হন না তিনি, আগে কখনো দেখেনওনি। আবু সুফিয়ান ভেজা চোখে বলছিলেন,
“ফেসবুক আর মিডিয়ায় যখন এই চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবরটা পড়লাম, কলিজাটা কেঁপে উঠেছিল। আমিও প্রবাসী। একজন প্রবাসী হিসেবে এই জানাজায় শরিক না হলে নিজেকে ক্ষমা করতে পারতাম না। মনকে শান্ত করতে ছুটে এসেছি।”
শেষ হলো না বাড়ি ফেরার অপেক্ষা
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওমানে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটছিলেন চার ভাই। উদ্দেশ্য ছিল একটাই পরিবারকে একটু ভালো রাখা। সম্প্রতি তাঁদের দেশে ফেরার সব প্রস্তুতিও শেষ হয়েছিল। সব ঠিকঠাক থাকলে আর কিছুদিন পরেই তাঁরা মায়ের কোলে ফিরে আসতেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, দেশে ফেরার ঠিক পূর্বমুহূর্তে ওমানে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নেয় চার ভাইয়ের প্রাণ। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের মৃত ঘোষণার পর থেকেই পরিবারটিতে আনন্দের বদলে নেমে আসে অন্ধকার।
মঙ্গলবার রাতে ঢাকার বিমানবন্দরে চার ভাইয়ের মরদেহ এসে পৌঁছায়। সেখানে উপস্থিত থেকে লাশগুলো গ্রহণ করেন হুমাম কাদের চৌধুরী এমপি। সকালে যখন মরদেহগুলো রাঙ্গুনিয়ার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়, তখন পুরো এলাকায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
ছোট ভাইয়ের ইমামতিতে শেষ বিদায়-
বেলা ১১টা। হোছনাবাদ লালানগর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তখন তিল ধারণের জায়গা নেই। রাঙ্গুনিয়া তো বটেই, আশেপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকেও মানুষ ছুটে এসেছেন চার রেমিট্যান্স যোদ্ধাকে শেষ বিদায় জানাতে।
সবচেয়ে হৃদয়বিদারক মুহূর্তটি আসে যখন জানাজার ইমামতির জন্য সামনে এসে দাঁড়ান নিহত চার ভাইয়ের একমাত্র জীবিত ছোট ভাই মো. এনাম। যে ভাইদের হাত ধরে বড় হওয়া, তাঁদেরই শেষ বিদায়ের নামাজ পড়াতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। জানাজা শেষে এনামের অশ্রুসিক্ত, আকুল মোনাজাতে উপস্থিত হাজারো মুসল্লির চোখ ফেটে জল নামে। পুরো মাঠজুড়ে তৈরি হয় এক স্তব্ধ, বেদনাবিধুর পরিবেশ।
জানাজা শেষে স্থানীয় মসজিদের পাশে কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবর খোঁড়া হয়েছিল। প্রবাসের মাটিতে যে চার ভাই ছায়ার মতো একে অপরের পাশে ছিলেন, চিরনিদ্রায় শায়িত হওয়ার সময়ও কেউ কাউকে ছেড়ে গেলেন না। পাশাপাশি চার কবরে দাফন করা হলো তাঁদের।
চার ভাইয়ের এমন মর্মান্তিক চলে যাওয়া কেবল একটি পরিবারের স্বপ্নকে ধুলিসাৎ করে দেয়নি, পুরো রাঙ্গুনিয়াজুড়ে রেখে গেছে এক গভীর ও কখনো না শুকানো ক্ষত।
আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট