
ওমানে চার ভাইয়ের মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্নের পাহাড়
ওমানে চার প্রবাসী ভাইয়ের রহস্যজনক মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের হৃদয়ে গভীর শোকের ছাপ ফেলেছে। যে চার ভাই দেশে ফিরছিলেন আনন্দ নিয়ে, ভাইয়ের বিয়ের স্বপ্ন নিয়ে, তারা ফিরছেন নিথর দেহ হয়ে এমন বাস্তবতা মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন।
ঘটনার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, প্রবাসী মহল এবং স্বজনদের মধ্যে একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এটি কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড?
প্রাথমিকভাবে কেউ কেউ গাড়ির ভেতরে গ্যাস জমে বিষক্রিয়ার কথা বলছেন। কিন্তু এই ব্যাখ্যা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কারণ, গাড়ির ভেতরে চারজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ছিলেন। তাদের মধ্যে অন্তত একজন হলেও দরজা বা জানালা খুলতে পারতেন এমন যুক্তি দিচ্ছেন অনেকে। আবার দাবি উঠেছে, তারা অসুস্থ অবস্থায় নিজেরাই গাড়ি চালিয়ে হাসপাতালের সামনে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু তখন আর গাড়ি থেকে বের হওয়ার মতো শক্তি ছিল না।
ঘটনার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো একটি ভয়েস বার্তা। পরিবারের দাবি, মৃত্যুর আগে তাদের একজন মোবাইলে সাহায্যের আকুতি জানিয়ে ভয়েস দিয়েছিলেন। যদি সত্যিই এমন কিছু থেকে থাকে, তবে তা তদন্তের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আলামত হতে পারে।
এদিকে আরেকটি রহস্য ঘনীভূত হয়েছে তাদের বাসার মালামাল ঘিরে। দেশে ফেরার প্রস্তুতির কারণে নগদ অর্থ, কেনাকাটার জিনিসপত্র, এমনকি স্বর্ণালংকারও ছিল বলে স্বজনদের দাবি। কিন্তু পরে কক্ষে সেগুলোর অনেক কিছুই পাওয়া যায়নি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ আরও বাড়ছে।
তবে বাস্তবতা হলো এ মুহূর্তে নিশ্চিতভাবে “হত্যা” বা “দুর্ঘটনা” কোনোটিই বলা যাচ্ছে না। আবেগ, সন্দেহ কিংবা সামাজিক আলোচনার বাইরে গিয়ে প্রয়োজন নিরপেক্ষ ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে হলে ফরেনসিক রিপোর্ট, কল রেকর্ড, সিসিটিভি ফুটেজ, গাড়ির যান্ত্রিক পরীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট সকল তথ্য বিশ্লেষণ জরুরি।
প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিদের জীবন অনেক কষ্ট, ত্যাগ আর স্বপ্নের গল্পে গড়া। তাই এমন একটি ঘটনায় স্বচ্ছ তদন্ত শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো প্রবাসী সমাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সত্য চাপা থাকলে গুজব বাড়বে, আর সঠিক তদন্ত হলে মিলবে ন্যায়বিচারের পথ।
আজ স্বজনদের একটাই দাবি “আমরা সত্য জানতে চাই।”
সেই সত্য উদঘাটন তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে সেটাই সবার প্রত্যাশা। প্রতিবেদন-আব্বাস হোসাইন আফতাব