
আব্বাস হোসাইন আফতাব :
যে বাড়িতে কয়েকদিন পর বিয়ের সানাই বাজানোর কথা ছিল, সেই বাড়িতেই এখন শুধুই কান্নার শব্দ। উঠানে নেই আনন্দের কোলাহল, নেই বিয়ের প্রস্তুতির ব্যস্ততা। স্বজনদের চোখে এখন শুধু অশ্রু আর অপেক্ষা, চার ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষা।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়া এলাকার একই পরিবারের চার সহোদর রাসেদুল ইসলাম, শাহেদুল ইসলাম, সিরাজুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলামের মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পুরো এলাকা। বুধবার (১৩ মে) ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জীবিকার তাগিদে ওমানে অবস্থান করছিলেন চার ভাই। পরিবারে এক ভাইয়ের বিয়ে ঠিক হওয়ায় ঘরে চলছিল আনন্দের প্রস্তুতি। খুব শিগগিরই দুই ভাইয়ের দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটা করতেই চার ভাই একসঙ্গে বের হয়েছিলেন। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে ওঠে জীবনের শেষ যাত্রা।
ওমানে থাকা একই এলাকার বাসিন্দা বাবুর মাধ্যমে প্রথমে দেশে পৌঁছে এই হৃদয়বিদারক সংবাদ। পরে লালানগর ইউনিয়নের মো. ইয়াকুব বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, বুধবার সকাল ৮টার দিকে স্থানীয় লোকজন একটি গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণে তারা গাড়ির ভেতরে এসি চালিয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। এতে এসির গ্যাস লিকেজ বা বিষক্রিয়াজনিত কারণে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় পুলিশ।
বর্তমানে চার ভাইয়ের মরদেহ রোস্তাক থানার হেফাজতে রয়েছে। সেগুলো মাস্কাটে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষায়, চার ভাই ছিলেন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও ভদ্র স্বভাবের। পরিবারকে ভালো রাখতে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করতেন তারা। একসঙ্গে জীবনযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া চার ভাইয়ের এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
যে ঘরে বিয়ের আনন্দে আলোকসজ্জা হওয়ার কথা ছিল, সেই ঘরেই এখন নিস্তব্ধতা। বিয়ের পোশাকের অপেক্ষায় থাকা পরিবার আজ অপেক্ষা করছে চারটি কফিনের জন্য।