চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার পদুয়ায় কিশোরী গণধর্ষণ ও প্রধান শিক্ষকের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় এজাহারনামীয় পলাতক আসামি সাইফুলকে (২৭) গ্রেফতার করেছে র্যাব-৭, চট্টগ্রাম। গত বুধবার চট্টগ্রাম মহানগরীর বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সাইফুল রাঙ্গামাটি জেলার চন্দ্রঘোনা থানার বাঙ্গালহালিয়ার ধলিয়া মুসলিম পাড়া এলাকার ছাবেরের ছেলে।
পুলিশ ও র্যাব সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল গত ৩০ মে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় দায়ের হওয়া চাঞ্চল্যকর কিশোরী গণধর্ষণ মামলার (মামলা নং- ০৬, তারিখ: ৩০/০৫/২০২৬, ধারা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৩)) এজাহারনামীয় পলাতক আসামি। একই সাথে, গত ৫ জুন পদুয়ায় হরিহর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস মাস্টারের বাড়িতে সংঘটিত হওয়া দুর্ধর্ষ ডাকাতি ও বর্বর নির্যাতনের ঘটনাতেও সে অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি।
পুলিশ জানায়, পদুয়ায় এর আগে ডাকাতি ও নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার হওয়া বাদশা মিয়াকে তিন দিনের রিমান্ডে আনা হয়েছিল। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বাদশার দেওয়া স্বীকারোক্তি এবং তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৭ চট্টগ্রামের একটি আভিযানিক দল চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় অভিযান চালিয়ে সাইফুলকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ গ্রেফতারকৃত সাইফুলকে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এই নিয়ে শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় মোট ৩ জন আসামিকে আইনের আওতায় আনা হলো। এর আগে রকিবুল ইসলাম রকি ও মোঃ ইমরান নামের দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
গত ৫ জুন গভীর রাতে জয়নগর চক ধলিয়া মুসলিম পাড়ায় প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস মাস্টারের বাড়িতে একদল সশস্ত্র ডাকাত প্রবেশ করে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে। টাকা ও চাবির জন্য প্রধান শিক্ষককে বিবস্ত্র করে বর্বর নির্যাতন চালানো হয় এবং গলায় ছুরি ধরে জবাইয়ের চেষ্টা করা হয়। পরে ঘর থেকে ৯ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৪০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় ডাকাত দল। এই ঘটনায় দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় দণ্ডবিধির ৩৯৫/৩৯৭ ধারায় আরও একটি মামলা (মামলা নং- ০১, তারিখ: ০৭/০৬/২০২৬) দায়ের করা হয়।
এদিকে র্যাবের হাতে সাইফুল গ্রেফতার হলেও কিশোরী গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অপর আসামি একই এলাকার জামাল উদ্দিনের ছেলে মাহবুবুল আলম ওরফে ইয়াবা মাল্ল এখনো পলাতক রয়েছে। একই অপরাধী চক্রের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর গণধর্ষণ ও দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় পুরো পদুয়াজুড়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।
তাদের দাবি, পলাতক আসামি ইয়াবা মাল্লকেও দ্রুত আইনের আওতায় এনে এই তিন ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি 'মৃত্যুদণ্ড' নিশ্চিত করতে হবে।
দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, গ্রেফতারকৃত সাইফুলকে বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। গণধর্ষণ ও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।