সমাজের জন্য ভালো কিছু করতে সবসময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। ব্যানার, মাইক, মঞ্চ কিংবা দীর্ঘ বক্তব্য ছাড়াও মানুষের কল্যাণে কাজ করা যায় নীরবে, নিভৃতে। এমন বিশ্বাস নিয়েই রাঙ্গুনিয়ার পথে-প্রান্তরে ছুটে চলেছেন এক তরুণ। তিনি নাজমুল করিম ফরহাদ।
‘একবেলা আহার’ কর্মসূচির সহযোগী হয়ে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার উদ্যোগে পরিচিত নাজমুল। তবে তার সামাজিক কর্মকাণ্ড শুধু খাদ্য সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে কাজ করার চেষ্টা করেন তিনি ও তার সহযোদ্ধারা।
সম্প্রতি রাঙ্গুনিয়ার বিভিন্ন সড়কে থাকা বিপদজনক স্পিড ব্রেকারগুলোতে রং করার উদ্যোগ নিয়েছে নাজমুলের দল। অনেক স্পিড ব্রেকার দূর থেকে সহজে চোখে না পড়ায় প্রায়ই যানবাহন চালক ও পথচারীরা দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়েন। বিষয়টি উপলব্ধি করে স্বেচ্ছাশ্রমে এসব স্পিড ব্রেকারে রং করে দৃশ্যমান করার কাজ শুরু করেন তারা।
স্থানীয়দের মতে, এটি ছোট একটি উদ্যোগ হলেও জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব অনেক। বিশেষ করে রাতের বেলায় বা অপরিচিত সড়কে চলাচলের সময় চালকদের জন্য এটি সহায়ক হবে।
নাজমুল ও তার দলের কর্মকাণ্ড দেখে অনেকেই বলছেন, সমাজ পরিবর্তনের জন্য সবসময় বড় প্রকল্পের প্রয়োজন হয় না। আন্তরিকতা, দায়বদ্ধতা এবং মানুষের জন্য কিছু করার মানসিকতা থাকলেই ছোট ছোট উদ্যোগ বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
মানুষের মুখে হাসি ফোটানো কিংবা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানোর মতো কাজের বিনিময়ে কোনো স্বীকৃতি বা প্রচার চান না নাজমুল। তার বিশ্বাস, মানুষের উপকারে আসা প্রতিটি কাজই এক ধরনের ইবাদত। আর সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি ও তার দল এগিয়ে চলেছেন মানবতার পথে।
রাঙ্গুনিয়ার অনেকেই মনে করেন, এমন তরুণদের হাত ধরেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের বীজ বপন হয়। নীরব এসব উদ্যোগই একসময় হয়ে ওঠে অনুপ্রেরণার গল্প, যা অন্যদেরও মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে উৎসাহিত করে।