নিজস্ব প্রতিবেদক: বছরের পর বছর ভাঙাচোরা সড়ক আর দুর্ভোগের সঙ্গী ছিল রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সৈয়দবাড়ি হাবীবুর সিকদার বাড়ির গ্রামের মানুষের। সামান্য বৃষ্টিতেই জমে যেত পানি। কোথাও ইট উঠে তৈরি হতো গর্ত, কোথাও আবার চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ত সড়ক। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, বৃদ্ধ মানুষ ও স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের জন্য এই পথ ছিল নিত্যদিনের দুর্ভোগের নাম। অবশেষে সেই কষ্টের অবসান হয়েছে। নির্মাণ শেষ হয়েছে সৈয়দবাড়ি হাবীবুর রহমান সিকদার বাড়ি সড়কের।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সৈয়দবাড়ি শহীদ ছালেহ আহমদ সড়ক থেকে পশ্চিমমুখী পশ্চিমপাড়া হয়ে হাবীবুর রহমান সিকদার বাড়ি পর্যন্ত সংযোগ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে ছিল। আগে ব্রিক সলিং করা হলেও সময়ের সঙ্গে তা ভেঙে যায়। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হতো এলাকাবাসীকে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, একটি সড়ক শুধু যাতায়াতের পথ নয়, এটি মানুষের জীবনযাত্রার অংশ। ভাঙা সড়কের কারণে অনেক সময় জরুরি রোগী হাসপাতালে নিতে সমস্যায় পড়তে হতো। রিকশা কিংবা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা চালকরাও এ পথে যেতে চাইতেন না।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পর অবশেষে রাঙ্গুনিয়া পৌর প্রশাসক সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। বর্তমানে নতুনভাবে নির্মিত সড়কটি ব্যবহার করতে পেরে খুশি স্থানীয়রা। তারা পৌর প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কাজের পুরো সময়জুড়ে পৌর কর্তৃপক্ষের তদারকি ছিল। দ্রুত ও মানসম্মতভাবে কাজ শেষ করার চেষ্টা করেছি।”
পৌরসভার প্রকৌশলী জমির উদ্দিন জানান, এডিপি থেকে বরাদ্দকৃত অর্থে নির্মিত প্রায় ১৪৫ মিটার দৈর্ঘ্যের এ সড়ক নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকা।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও রাঙ্গুনিয়া পৌর প্রশাসক দেবব্রত দাশ বলেন, “মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়েই সড়কটির জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পৌর এলাকার নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।”
দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর নতুন এই সড়ক এখন শুধু একটি রাস্তা নয়, স্থানীয় মানুষের জন্য স্বস্তি আর স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রতীক।